QR কোড ও ওয়াইফাই QR জেনারেটর – QR Code Generator

এই টুল কী করে

এক জায়গা থেকেই ১২ ধরনের QR কোড বানাতে পারবেন — ওয়েবসাইট, ওয়াইফাই পাসওয়ার্ড, হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট, ফোন নম্বর, ইমেইল, এসএমএস, ম্যাপ লোকেশন, ভিজিটিং কার্ড, ফেসবুক পেজ, ইউটিউব চ্যানেল ও পেমেন্ট তথ্য। কোড PNG (ছবি) বা SVG (প্রিন্টের জন্য, যত বড় করলেও ঝাপসা হয় না) হিসেবে ডাউনলোড করা যায়।

ওয়াইফাই QR — সবচেয়ে কাজের ব্যবহার

দোকান, অফিস, রেস্টুরেন্ট বা বাসায় প্রতিবার অতিথিকে পাসওয়ার্ড বলে দেওয়ার দরকার নেই। ওয়াইফাই QR বানিয়ে প্রিন্ট করে দেয়ালে লাগিয়ে দিন — Android ও iPhone-এর ক্যামেরা দিয়ে স্ক্যান করলেই সরাসরি নেটওয়ার্কে যুক্ত হয়ে যাবে।

  • SSID — ওয়াইফাই নেটওয়ার্কের নাম হুবহু, বড়-ছোট হাতের অক্ষরসহ।
  • নিরাপত্তা — বেশিরভাগ রাউটারে WPA/WPA2/WPA3। পুরোনো রাউটারে WEP।
  • Hidden — নেটওয়ার্কের নাম লুকানো থাকলে টিক দিন।

কীভাবে ব্যবহার করবেন

  1. উপরে QR-এর ধরন বেছে নিন।
  2. ঘরগুলো পূরণ করুন।
  3. দরকার হলে রঙ, মাপ ও ত্রুটি সংশোধনের মাত্রা বদলান।
  4. QR কোড বানান চাপুন, তারপর PNG বা SVG ডাউনলোড করুন।
  5. প্রিন্ট বা শেয়ার করার আগে নিজের ফোন দিয়ে একবার স্ক্যান করে দেখে নিন।

ত্রুটি সংশোধন (Error Correction) কী

QR কোডের ভিতরে বাড়তি তথ্য রাখা হয়, যাতে কোডের কিছু অংশ নষ্ট বা ঢাকা পড়লেও স্ক্যান হয়।

  • L (৭%) — স্ক্রিনে দেখানোর জন্য, কোড ছোট থাকে।
  • M (১৫%) — সাধারণ ব্যবহারের জন্য সবচেয়ে ভালো ভারসাম্য।
  • Q (২৫%) / H (৩০%) — প্রিন্ট করা স্টিকার, বাইরে টাঙানো পোস্টার, বা মাঝখানে লোগো বসাতে চাইলে।

সচরাচর যে ভুলগুলো হয়

  • মার্জিন বাদ দেওয়া — QR-এর চারপাশে সাদা জায়গা (quiet zone) না থাকলে অনেক স্ক্যানার পড়তে পারে না।
  • হালকা রঙ ব্যবহার — সামনের রঙ গাঢ় এবং পেছনের রঙ হালকা হতে হবে। উল্টো করলে বেশিরভাগ ফোনে কাজ করে না।
  • খুব ছোট প্রিন্ট — সাধারণ ব্যবহারে অন্তত ২ × ২ সেন্টিমিটার রাখুন। দূর থেকে স্ক্যান করাতে হলে আরও বড়।
  • অনেক বেশি লেখা — QR-এ যত বেশি তথ্য, তত ঘন প্যাটার্ন এবং তত কঠিন স্ক্যান। লম্বা লেখার বদলে একটি লিংক দিন।
  • স্ক্যান করে না দেখা — ছাপানোর আগে অবশ্যই অন্তত দুটি ফোনে পরীক্ষা করুন।

প্রাইভেসি

এই QR কোডগুলো স্ট্যাটিক — অর্থাৎ তথ্যটি সরাসরি কোডের ভিতরে থাকে, কোনো ট্র্যাকিং লিংক বা রিডাইরেক্ট সার্ভার ব্যবহার করা হয় না। আপনার ওয়াইফাই পাসওয়ার্ড বা যোগাযোগের তথ্য আমাদের সার্ভারে পাঠানো বা সংরক্ষণ করা হয় না; কোডটি আপনার ব্রাউজারেই তৈরি হয়। ফলে কোড কতবার স্ক্যান হলো তা জানার কোনো উপায় নেই — কিন্তু আপনার তথ্যও কারও হাতে যায় না, এবং কোড কখনো মেয়াদোত্তীর্ণ হয় না।

সর্বশেষ হালনাগাদ: ১ আগস্ট ২০২৬

সচরাচর জিজ্ঞাসা (FAQ)

QR কোডের মেয়াদ শেষ হয়ে যাবে?

না। এগুলো স্ট্যাটিক QR, তথ্য কোডের ভিতরেই থাকে। যতদিন কাগজটি টিকবে ততদিন কাজ করবে।

বানানোর পর তথ্য বদলাতে পারব?

না। স্ট্যাটিক QR-এ তথ্য বদলাতে হলে নতুন কোড বানাতে হবে। তথ্য বারবার বদলাতে হলে একটি ওয়েব পেজের লিংকের QR বানান, তারপর পেজের ভিতরের লেখা বদলান।

বাংলা লেখা দেওয়া যাবে?

হ্যাঁ, বাংলা UTF-8 হিসেবে এনকোড হয়। তবে বাংলা অক্ষর ইংরেজির চেয়ে বেশি জায়গা নেয়, এবং কিছু পুরোনো স্ক্যানার অ্যাপ বাংলা ঠিকভাবে দেখাতে পারে না — ছাপানোর আগে পরীক্ষা করে নিন।

মাঝখানে লোগো বসাতে পারব?

এই টুলে সরাসরি নয়। তবে ত্রুটি সংশোধন H রেখে SVG ডাউনলোড করে যেকোনো ডিজাইন সফটওয়্যারে লোগো বসাতে পারবেন — কোডের ২৫%-এর বেশি ঢাকবেন না।

PNG না SVG — কোনটা নেব?

ওয়েবসাইট, ফেসবুক বা হোয়াটসঅ্যাপে শেয়ার করতে PNG। ব্যানার, পোস্টার, ভিজিটিং কার্ড বা যেকোনো প্রিন্টের জন্য SVG — যত বড় করলেও ঝাপসা হবে না।

সম্পর্কিত টুল