নতুন ল্যাপটপ কেনার পর বা পুরোনো ল্যাপটপে কাজ করতে গিয়ে অনেকেরই প্রশ্ন জাগে — আমার ল্যাপটপটা আসলে কতটা ফাস্ট? অনুমানের বদলে সঠিকভাবে Laptop speed test করলে আপনি নিজেই বুঝতে পারবেন CPU, RAM আর storage কেমন পারফর্ম করছে। এই লেখায় বিল্ট-ইন টুল আর জনপ্রিয় বেঞ্চমার্ক সফটওয়্যার দিয়ে ধাপে ধাপে স্পিড টেস্ট করার নিয়ম দেখানো হলো।
Laptop Speed Test করার ধাপ
- Task Manager খুলুন — কীবোর্ড থেকে Ctrl+Shift+Esc চাপুন অথবা taskbar-এ right-click করে Task Manager সিলেক্ট করুন। এটিই আপনার ল্যাপটপের রিয়েল-টাইম পারফরম্যান্স দেখার সবচেয়ে সহজ উপায়।
- Performance ট্যাবে যান — বাঁ পাশের Performance ট্যাবে CPU, Memory, Disk আর GPU-এর ব্যবহার গ্রাফ আকারে দেখা যায়। কোনো ভারী কাজ ছাড়াই যদি CPU বা RAM ৭০-৮০%-এর বেশি ব্যবহার হতে থাকে, তাহলে বুঝতে হবে ব্যাকগ্রাউন্ডে কোনো প্রোগ্রাম রিসোর্স খাচ্ছে।
- Boot time মেপে দেখুন — পাওয়ার বাটন চাপার মুহূর্ত থেকে desktop পুরোপুরি ব্যবহারযোগ্য হওয়া পর্যন্ত সময় স্টপওয়াচ দিয়ে মাপুন। SSD-যুক্ত আধুনিক ল্যাপটপে সাধারণত ১৫-৩০ সেকেন্ডের মধ্যে বুট হওয়া উচিত; এর চেয়ে বেশি সময় লাগলে startup app বেশি থাকার সম্ভাবনা আছে।
- Disk speed টেস্ট করুন — CrystalDiskMark-এর মতো পরিচিত ও বিশ্বস্ত টুল অফিসিয়াল সাইট থেকে ডাউনলোড করে ইনস্টল করুন, এরপর Run চাপলেই Read আর Write স্পিড MB/s-এ দেখাবে। SSD সাধারণত কয়েকশ থেকে কয়েক হাজার MB/s স্পিড দেখায়, পুরনো HDD-তে এই সংখ্যা অনেক কম, প্রায় ১০০-১৫০ MB/s-এর আশেপাশে থাকে।
- Overall benchmark score দেখুন — UserBenchmark-এর মতো টুল দিয়ে CPU, GPU আর storage-এর সামগ্রিক স্কোর পাওয়া যায়, যা একই মডেলের অন্য ল্যাপটপের সাথে তুলনা করতে সাহায্য করে। তবে এসব টুলের র্যাঙ্কিং বা “পারসেন্টাইল” সবসময় নিখুঁত নয়, তাই একে একমাত্র মাপকাঠি হিসেবে ধরবেন না।
- ফলাফল বিশ্লেষণ করুন — CPU usage যদি সবসময় বেশি থাকে তাহলে প্রসেসর দুর্বল বা প্রোগ্রাম বেশি খোলা; Disk speed কম হলে HDD থেকে SSD-তে upgrade সবচেয়ে কার্যকর সমাধান। ফলাফল নোট করে রাখুন, যাতে ভবিষ্যতে তুলনা করতে পারেন।
সতর্কতা
- বেঞ্চমার্ক সফটওয়্যার সবসময় অফিসিয়াল ওয়েবসাইট থেকে ডাউনলোড করুন, থার্ড-পার্টি সাইট থেকে নয়
- টেস্টের আগে ভারী অ্যাপ ও ব্রাউজার ট্যাব বন্ধ রাখুন, নইলে ফলাফল সঠিক আসবে না
- ল্যাপটপ চার্জারে লাগিয়ে টেস্ট করুন, কারণ battery saver মোডে থাকলে পারফরম্যান্স কম দেখাতে পারে
- “আপনার PC-কে ৩০০% ফাস্ট করুন” ধরনের বিজ্ঞাপনী টুলের দাবি বিশ্বাস করবেন না
সচরাচর জিজ্ঞাসা (FAQ)
CrystalDiskMark-এ কত স্পিড হলে ভালো ধরা হয়?
সাধারণ SATA SSD-তে সিকোয়েনশিয়াল রিড/রাইট স্পিড ৪০০-৫৫০ MB/s-এর আশেপাশে হলে স্বাভাবিক, আর NVMe SSD-তে এই সংখ্যা কয়েক হাজার MB/s পর্যন্ত হতে পারে। এর তুলনায় পুরনো HDD-তে ১০০-১৫০ MB/s হলেই ধরে নিতে হবে সেটাই স্বাভাবিক সীমা।
Task Manager-এ Memory ৯০%-এর বেশি দেখালে কী করব?
প্রথমে Processes ট্যাবে গিয়ে Memory কলাম অনুযায়ী সাজিয়ে দেখুন কোন অ্যাপ সবচেয়ে বেশি RAM ব্যবহার করছে এবং অপ্রয়োজনীয়টি বন্ধ করুন। বারবার এমন হলে RAM বাড়ানো বা startup app কমানো দরকার হতে পারে।
বেঞ্চমার্ক টুল কি ল্যাপটপের ক্ষতি করতে পারে?
পরিচিত ও অফিসিয়াল সোর্স থেকে নেওয়া টুল সাধারণত নিরাপদ এবং ল্যাপটপের ক্ষতি করে না। তবে দীর্ঘসময় ভারী স্ট্রেস টেস্ট চালালে ল্যাপটপ গরম হতে পারে, তাই একটানা অনেকক্ষণ না চালানোই ভালো।
Laptop fast কি না তা speed test ছাড়াই কীভাবে বুঝব?
দৈনন্দিন ব্যবহারে যদি অ্যাপ খুলতে দেরি হয়, ব্রাউজিং করতে গিয়ে টাচপ্যাড বা টাইপিং এ ল্যাগ অনুভব হয়, তাহলে বুঝতে হবে ল্যাপটপ যথেষ্ট ফাস্ট নয়। তবে সঠিক কারণ বুঝতে উপরের Task Manager ও বেঞ্চমার্ক টেস্টই সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য উপায়।
নিয়মিত এক-দুই মাস পরপর একই টেস্টগুলো আবার চালিয়ে ফলাফল তুলনা করে রাখুন। সময়ের সাথে স্কোর ক্রমাগত কমতে থাকলে বুঝবেন কোনো সফটওয়্যার সমস্যা বা স্টোরেজ পুরনো হয়ে যাওয়ার লক্ষণ দেখা দিচ্ছে, যা আগেভাগে ধরতে পারলে বড় সমস্যা এড়ানো যায়।
সম্পর্কিত পোস্ট
We love to share our knowledge on current technologies. Our motto is ‘Do our best so that we can’t blame ourselves for anything“.
