পুরাতন ফোন কেনার আগে ১০টি জিনিস Check করুন

পুরাতন ফোন কেনার আগে Checklist

বাজেট কম থাকলে বা ব্র্যান্ড নিউ ফোনের দাম আকাশছোঁয়া মনে হলে অনেকেই পুরাতন বা সেকেন্ড-হ্যান্ড স্মার্টফোন কেনার সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু পুরাতন ফোন কেনার আগে করণীয় কিছু জরুরি বিষয় যদি ঠিকভাবে যাচাই না করেন, তাহলে কম দামে ভালো ডিল ভেবে আসলে নষ্ট, রিফার্বিশড বা এমনকি চোরাই ফোন কিনে ঠকে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। ব্যাটারি হেলথ থেকে শুরু করে স্ক্রিনের হালকা টাচ প্রবলেম—অনেক সমস্যা বাহির থেকে খালি চোখে বোঝা যায় না। তাই টাকা হাতে দেওয়ার আগে নিচের ১০টি চেকলিস্ট মিলিয়ে নিলে বড় ধরনের ক্ষতি এড়ানো সম্ভব।

কেনার আগে ১০টি Checklist

  1. IMEI ও BTRC Registration চেক করা — ফোনের Settings থেকে বা *#06# ডায়াল করে IMEI নাম্বার নিয়ে BTRC-এর অফিসিয়াল সিস্টেমে বা SMS-এর মাধ্যমে চেক করুন ফোনটি বৈধভাবে রেজিস্টার্ড কিনা। আনরেজিস্টার্ড ফোনে নেটওয়ার্ক সমস্যা হতে পারে।
  2. বডি ও স্ক্রিনের ফিজিক্যাল ড্যামেজ দেখা — ফোনের চারপাশে ডেন্ট, স্ক্র্যাচ, ক্র্যাক বা ফ্রেম বাঁকা কিনা ভালো আলোতে খুঁটিয়ে দেখুন। বেশি স্ক্র্যাচ থাকলে বোঝা যায় ফোনটি কতটা কেয়ারফুলি ইউজ হয়েছে।
  3. টাচ ডেড-জোন ও ডিসপ্লে টেস্ট করা — একটি Drawing App বা All-Pixel Test অ্যাপ দিয়ে পুরো স্ক্রিনে আঙুল টেনে দেখুন কোথাও টাচ কাজ করছে না কিনা, সাদা/সবুজ/নীল কালার শো করিয়ে ডেড পিক্সেল বা লাইন আছে কিনা যাচাই করুন।
  4. ব্যাটারি হেলথ ও ব্যাকআপ যাচাই — Settings-এর Battery Health অপশন (iPhone-এ সরাসরি, Android-এ থার্ড-পার্টি অ্যাপ দিয়ে) দেখে ব্যাটারির Capacity কত % আছে জেনে নিন। ৮০%-এর নিচে থাকলে সহজেই বুঝবেন ব্যাটারি বদলাতে হবে।
  5. সব পোর্ট ও বাটন কাজ করছে কিনা দেখা — চার্জিং পোর্ট, হেডফোন জ্যাক (থাকলে), ভলিউম বাটন, পাওয়ার বাটন, ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সর প্রতিটা আলাদাভাবে টেস্ট করে নিশ্চিত হোন সবকিছু স্মুথলি কাজ করছে।
  6. ফ্রন্ট ও ব্যাক ক্যামেরা টেস্ট করা — দুই ক্যামেরা দিয়ে ছবি তুলে ফোকাস ঠিকমতো হচ্ছে কিনা, লেন্সে দাগ বা ভেতরে ফাঙ্গাস/স্পট আছে কিনা এবং ফ্ল্যাশ ঠিকমতো কাজ করছে কিনা চেক করুন।
  7. অরিজিনাল বক্স, বিল ও ওয়ারেন্টি কার্ড আছে কিনা — অরিজিনাল বক্সে থাকা IMEI নাম্বার ফোনের IMEI-এর সাথে ম্যাচ করে কিনা দেখুন। ক্রয়ের বিল বা ওয়ারেন্টি কার্ড থাকলে ফোনের মালিকানা ও authenticity নিয়ে নিশ্চিন্ত থাকা যায়।
  8. বিক্রেতার NID দিয়ে মালিকানা যাচাই — চোরাই ফোন এড়াতে বিক্রেতার NID কার্ড দেখতে চান এবং সম্ভব হলে ফোনের আগের বিল বা কেনার প্রমাণের সাথে নাম মিলিয়ে দেখুন। সন্দেহ হলে কেনা থেকে বিরত থাকুন।
  9. পানি লাগার চিহ্ন (Water Damage Indicator) দেখা — সিম ট্রে খুলে ভেতরে ছোট Water Damage Indicator (সাধারণত সাদা থেকে লাল/গোলাপি হয়ে যায়) স্টিকারটি দেখুন। কালার বদলে গেলে বুঝবেন ফোনে আগে পানি ঢুকেছিল।
  10. SIM, নেটওয়ার্ক, WiFi ও Bluetooth টেস্ট করা — নিজের সিম কার্ড দিয়ে কল করে নেটওয়ার্ক সিগন্যাল ঠিকমতো আসছে কিনা, WiFi ও Bluetooth কানেক্ট হচ্ছে কিনা এবং জিপিএসও কাজ করছে কিনা সরাসরি টেস্ট করে নিন।

সচরাচর জিজ্ঞাসা (FAQ)

পুরাতন ফোন কেনা কি নিরাপদ?

হ্যাঁ, উপরের চেকলিস্ট মেনে চেক করলে পুরাতন ফোন কেনা সম্পূর্ণ নিরাপদ। বিশ্বাসযোগ্য বিক্রেতা বা পরিচিত শপ থেকে কেনা এবং সম্ভব হলে সাথে কারো মোবাইল বিষয়ে জ্ঞান থাকা মানুষ নিয়ে যাওয়া ঝুঁকি আরও কমিয়ে দেয়।

IMEI নাম্বার কীভাবে চেক করবেন?

ফোনের ডায়াল প্যাডে গিয়ে *#06# টাইপ করলে IMEI নাম্বার স্ক্রিনে চলে আসবে। এই নাম্বারটি BTRC-এর নির্ধারিত পদ্ধতিতে (ওয়েবসাইট বা SMS) সাবমিট করলে ফোনটি বৈধভাবে রেজিস্টার্ড কিনা তা জানা যায়। বক্সে লেখা IMEI-এর সাথেও মিলিয়ে দেখা উচিত।

ত্রুটি পেলে দাম নিয়ে কীভাবে দর-কষাকষি করবেন?

চেকলিস্ট অনুযায়ী যাচাই করার সময় যদি ব্যাটারি হেলথ কম, স্ক্রিনে স্ক্র্যাচ বা কোনো পোর্টে সমস্যা পান, তাহলে সেই সমস্যাগুলো নির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করে বিক্রেতাকে দাম কমাতে বলুন। উদাহরণস্বরূপ, ব্যাটারি বদলানোর খরচ বা স্ক্রিন রিপেয়ারের আনুমানিক খরচ হিসাব করে সেই অনুযায়ী দাম প্রস্তাব করাই সবচেয়ে বাস্তবসম্মত পদ্ধতি।

সম্পর্কিত পোস্ট

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *